অবসরের গল্প অবলম্বনে।। রহস্য গল্প।। গুপ্তধন।।
"দ্বিতীয় পর্ব "
দাদুর চোখে জল, দাদু কাদঁছেন। দাদু কে দেখে আমি কিছু বোঝার আগেই দাদু আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন বাবার শেষ ইচ্ছে টা পূরণ করো দাদুভাই।
আমি তখন অবাক দৃষ্টিতে দাদুকে জিজ্ঞেস করলাম শেষ ইচ্ছে?
কি এমন কথা যে কঠোর মানুষ টাকে ভেঙে দিয়েছে। দাদু বাবার প্রতি খুবই দুর্বল ছিলেন, কিন্তু মানুষ টা এমনিতে খুবি শক্ত মনের মানুষ।
দাদু কে খাটে নিয়ে বসালাম, বললাম দাদু তুমি যা চাইবে তাই হবে। বাবার শেষ ইচ্ছে আমি পূরণ করবই।
দাদু এবার বললেন শোন তবে, একদিন সন্ধ্যে বেলায় তোমার বাবার ফটো টা পড়ে ভেঙে যায়। আমি তখন ফটো টা তুলতে গিয়ে দেখি, একটি ছোটো ডাইরি।
ডাইরি টা তে তোমার বাবার কিছু লেখা কথা ছিল। মনে হয় কাউকে কোনও দিন বলতে পারেনি সে কথা।
আমি খুব আগ্রহের সাথে শুনছিলাম। তারপর দাদু।
সেখানে বিশেষ কিছু লেখা ছিল না। শুধু একখানি ঠিকানা আর একটি ফোন নাম্বার। আর লেখা ছিল একটি তারিখ যা আগামী পরশু পড়ছে সেই তারিখ অনুযায়ী।
কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কি বলছেন দাদু। বাবা মারা গেছেন আজ থেকে দশ বছর আগে আর তখন এরকম তারিখ কেনো হিসেব করে রেখেছিলেন।
আমি বললাম আচ্ছা দাদু ফোন নম্বরে কি ফোন যাচ্ছে, নাম্বারটি কি এখনো অস্থিত্ব আছে।
দাদু বললেন হ্যাঁ আমি ফোনে কথা বলেছি! তোমার বাবার স্কুলের বন্ধু রথীন এর নাম্বার। তো উনি কি বললেন? উনি কি কিছু যানেন এই তারিখ টির বিষয়ে।
প্রথমে বলতে চাইছিলো না পড়ে জোর করাতে বলল। কি বললেন দাদু। বল আমাকে।
দাদু খুব অসুস্থ বোধ করছেন মনে হয়। থাক দাদু, আমি কাল শুনবো। এখন তুমি বিশ্রাম নাও। এই বলে দাদু কে বিছানায় শুয়ে ঘরে চলে আসলাম।
কিন্তু মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন কি আছে ওই তারিখে?
মিঠি কে ফোন করি, না হলে আমার এই অস্থিরতা কমবে না। দেখি ও কিছু সলিউশন দিতে পারে কিনা।
একি মিঠির ফোন বন্ধ! দুদিন কথা হয় নি তাই রেগে গিয়ে ফোন টাকে বন্ধ করে রেখেছে। এদিকে দাদুর সব কথা না শুনে আমি তো কোলকাতায় ফিরতেও পারবো না। কি যে করি। মা কে ফোন করবো? কিন্তু বাবার এসব কথা শুনে মা তো আরও অস্থির হয়ে পড়বে। আমি যে কি করি!
সারা রাত ভেবেই কাটিয়ে দিলাম।
সকালে উঠে দেখি দাদু আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছেন। আরে দাদু তুমি এই শরীর নিয়ে এসেছো, আমাকে ডাকতে, আমি যেতাম। না দাদুভাই এখন ঠিক আছি। তুমি বসো দাদু। তোমাকে তো আজ কেই আমার কথা গুলো শুনতে হবে। হ্যাঁ নিশ্চই শুনবো কিন্তু এত সকালে কি এমন কথা দাদু। আমিও এবার চিন্তায় পড়ে গেলাম দাদু কে দেখে।
রথীন খুবি মেধাবী ছিলো। তোমার বাবা আর রথীন ছোটো থেকে একসাথে বড়ো হয়েছে লেখাপড়া করেছে কিন্তু শারীরিক দিক থেকে রথীন খুব অসুস্থ ছিলো তাই বাড়িতেই কিছু ছাত্র ছাত্রী পরাতো। এছাড়া সেরকম রোজগার ছিলো না। তোমার বাবা মাঝে মাঝে রথীনএর সাথে দেখা করে আসতেন। রথীন এর স্ত্রী হটাৎ মারা যান তখন রথীন এর একমাত্র মেয়ের বয়স ১৩ বছর।
তার কিছু দিন পরেই তোমার বাবাও গত হন আমি এটুকুই জানতাম তারপর থেকে রথীন এর সাথে আর যোগাযোগ করে ওঠা হয় নি আমাদের।
সেদিন তোমার বাবার লেখা নম্বরটিতে ফোন করে জানতে পারি এটি রথীন এর নম্বর।
কি বললেন উনি? এখন রথীন বিছানায় সজ্জাসহ। ওর মেয়ে একটি স্কুলে পড়ায় কোন রকমে ওদের বাপ মেয়ের জীবন কাটছে।
কিন্তু দাদু ওই তারিখ টির বিষয়ে কিছু কি বললেন রথীন কাকু?
একদিন সন্ধ্যে বেলায় তোমার বাবা রথীন এর বাড়ী যায় দেখা করতে, আর তখন গিয়ে দেখে মেয়েটি প্রদীপের আলোতে অঙ্ক কষছে।
প্রতি টা অঙ্ক একদম সঠিক। তোমার বাবা খুশী হয়ে মেয়েটির পুরোপুরি সব দায়িত্ব নিতে চায় কিন্তু রথীন রাজী হয় না। তখন তোমার বাবা নিরুপায় হয়ে মেয়েটির জন্যে একটি সির্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
কি সির্ধান্ত দাদু?
পরের রহস্য গল্প টুকু শেষ পর্বে নিয়ে আসবো। আজ কের মতো এখানেই শেষ।
"কলমে রিবেকা!

3 comments:
nice
nice
Bhalo
Post a Comment