অবসরের গল্প অবলম্বনে।। রহস্য গল্প।। গুপ্তধন।।
"শেষ পর্ব "
অবশেষে বাবার ইচ্ছে পুরন করে আমি বাড়ী ফিরলাম। কিন্তু সবটাই আমাকে দিয়ে করানো হলো, আমি মনের থেকে কিছুই করতে পারিনি। সবটাই অন্ধের দৃষ্টি দিয়ে করেছি এমন কি যিনি আমার সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ওনাকেও দেখার ইচ্ছে হয়নি।
আজ বৌভাত এর অনুষ্ঠান তাই সবাই কাজ নিয়ে ব্যাস্ত, আমি নিজেকে ঘর বন্দি করে রেখেছি। মনের মধ্যে একটাই অভিযোগ মিঠির সাথে আমি অন্যায় করে ফেললাম। এই রহস্যময় বৈবাহিক সম্পর্ক আমি কি সারা জীবন বয়ে নিয়ে যেতে পারব?
সবই আচার অনুষ্ঠান হচ্ছে কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। মন টা মিঠির কাছেই পরে আছে। কিন্তু আর কতক্ষন আমি এভাবে নিজেকে ঘর বন্দি রাখবো?
ফুলসজ্জার ঘরে তো আমাকে যেতেই হবে। আমার জীবনের মূল্যবান মানুষ টিকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা নিয়ে আমি নতুন জীবনে নতুন মানুষটিকে আপন করা, "আমার পক্ষে সম্ভব নয়!
এইসব ভাবতে ভাবতে আমি বড্ড অসুস্থ বোধ করছিলাম। ঘরে কে যেনো আসছে কিন্তু আমি কাউকে আর দেখতে পারছি না।
ঘুম ভাঙ্গার পর দেখি ডাক্তার কাকা পাসে বসে আছে। মা মাথায় হাত বোলাচ্ছে, দাদু, কাকা সবাই ঘরে।
কী হয়ছে আমার! জিজ্ঞেস করলাম?
কিছু হয়নি খোকা। বিয়ের একটা ধকল গেছে, খাওয়া দাওয়া ঠিক মত হয়নি তাই হয়তো তুমি একটু অসুস্থ্ হয়ে পড়েছিলে। আমি ইনজেকশন দিয়েছি, এখন তুমি রেস্ট নাও সন্ধ্যের মধ্যে তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। এই বলে ডাক্তার কাকা চলে গেলেন।
আমি সারা দিন ঘুমের মধ্যে কাটিয়ে দিলাম কেউ আমাকে ডিস্টার্ব করেনি। এমন কি সন্ধ্যের অনুষ্ঠানে আমি থাকতে পারলাম না। ঘুমের মধ্যে মিঠি কে নিয়েই কাটিয়ে দিলাম।
রাতে মা ঘরে আসলেন, মা বললেন বাবু এখন কেমন বোধ করছ। আমি বললাম ঠিক আছি মা। মা এবার বললেন! তোমার স্ত্রী তোমার অপেক্ষায় পাশের ঘরে বসে আছে এবার তো তোমার ঘরে বউমা কে আনতে হবে। না হলে মেয়েটি কি ভাববে।
আমি মাথা নাড়ালাম শুধু, কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না। মা বলে চলে গেলেন।
আহ্লাদী এবার ঘরে এসে বললেন খোকা বাবু বৌমনি কে দিয়ে গেলাম।
আমি জানালার পাশে দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আকাশটা আজ চাঁদের আলোয় জ্বলজ্বল করছে আর তারা গুলো আকাশে ঝলমল করছে।। আমার বার বার মনে হচ্ছে বাবা যেনো আমাকে দুহাত দিয়ে আশির্বাদ করে বলছে খোকা গ্রহণ করো তোমার গুপ্তধন কে।
হটাৎ কে বলে উঠলো আপনার জল। মনে হলো মিঠির গলা। মিঠির গায়ের গন্ধ। কিন্তু এসব আমার ভুল ধারণা, সারা দিন মিঠির কথা ভাবতে ভাবতে সব টাই মিঠি বলে মনে হচ্ছে।
উনি এবার বলে উঠলেন, আপনাকে আমার কিছু বলার আছে। যা বিয়ের আগেই বলার ছিল কিন্তু আমার বাবার দিকে তাকিয়ে আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করে কিছু বলার সুযোগ পাইনি।
এই বিয়েটা আমার মনের ইচ্ছের বাইরে হয়েছে তবুও আমি আমার বাবার কথা মত করেছি। আমি একজন কে কথা দিয়েছিলাম তার সাথে বাকি জীবন টা কাটাবো কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তনে আজ আমি তার জীবন থেকে অনেক দূরে। তাকে আমি বলার সুযোগ টাও পাই নি কিছু তাই আপনি যদি তার সাথে একবার দেখা করার অনুমতি দেন তাহলে আমি আমার মনের দিক থেকে শান্তি পাবো।
নিজের যন্ত্রণা আরো বেরে গেল, সত্যিই আমিও তো মিঠি কে কিছু বলার সুযোগ পাই নি। আমারও তাহলে মিঠির সামনে গিয়ে বলা উচিৎ। কিন্তু মিঠি কি মেনে নিতে পারবে?
মেয়েটি এবার বলে উঠলো আপনার শরীর খারাপ আর অনেক রাত হয়ে গেছে আপনি শুয়ে পড়ুন।
মেয়েটি ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে খাটের একধারে শুয়ে পড়লো। আমিও অন্ধকারের মধ্যে গিয়ে বিছানার আর এক ধারে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু মিঠির গায়ের গন্ধ সাড়া ঘরে ময়ময় করছিলো।
সাড়া রাত জানলা টা খোলাই রইল।
ভোরের আলো জানলা দিয়ে চোখে আসতেই ঘুম টা ভেঙ্গে গেলো। বিছানায় উঠে বসলাম। চোখ কচলাতে কচলাতে মেয়েটির দিকে চোখ পড়ল। একি!
মেয়েটি অবিকল মিঠির মত দেখতে। আমি এখনো মিঠি ছাড়া কিছুই যে ভাবতে পারছি না। তাকিয়েই রইলাম মেয়েটির দিকে।
হটাৎ কে আমাকে সমু বলে ডেকে উঠলো। এ নাম মিঠি ছাড়া কেউ ডাকে না। আবারো আমি অসুস্থ বোধ করতে লাগলাম।
আমাকে মুখে জল ছিটিয়ে সমু সমু করে ডাকছে।
আমি তাকালাম কে মিঠি। হ্যাঁ সমু আমি তোমার মিঠি। কিন্তু তুমি এখানে কি করে এলে? ভাগ্য চক্রে আমি যে তোমার অগ্নি সাক্ষী করা স্ত্রী যা আমাদের দুজনের অজানা তেই ঘটে গেছে।
আমি উঠে বসলাম এবার, চোখের জল আজ দুজনের হৃদয় দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। হৃদপিন্ড অনেক দূর গতিতে চলছে। এটাও কি সম্ভব। আজ আমাদের দুজনের মনের ইচ্ছে সাফল্য পেলো। দুজন দুজনার দিকে চেয়ে প্রকাশ করলাম কতো টা যন্ত্রণার মধ্যে কাটিয়েছি এই কটা দিন।
এই ভাবেই সমু তার গুপ্তধন মিঠি কে পেলো। ওদের জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করে আমার গল্প শেষ করলাম।
সবাই কে ধন্যবাদ।
"কলমে রিবেকা"
